বরিশাল প্রতিনিধি
জানমালের নিরাপত্তার দাবিতে বরিশাল থেকে অভ্যন্তরীণ ১৬টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করছেন মোটরশ্রমিকরা। বন্ধ হয়ে গেছে বরিশালের সঙ্গে পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনার সড়ক যোগাযোগ। দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সব রুটের যাত্রীরা। রফিক, শাহ আলমসহ একাধিক শ্রমিকরা বলেন, আমাদের ওপর প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের নির্যাতন বাড়ছে। ছোটখাটো ঘটনায় তারা বাসের হেলপার থেকে শুরু করে সুপারভাইজার ও চালককে মারধর করেন। এ কারণে জানমালের নিরাপত্তায় আমরা কর্মবিরতি ডেকেছি। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে না পারলে গাড়ি চালাবে না বলে জানান তারা। একই সুরে কথা বলেন রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে থাকা একাধিক মোটরশ্রমিক। তারা বলেন, সবারই পরিবার রয়েছে। আমাদের কোনও ধরনের সমস্যা হলে পরিবারটি কে চালাবে? আমাদের নিরাপত্তার একটা স্থায়ী সমাধান দরকার। তা না হলে আমরা বাসে উঠবো না। মালিকরা প্রয়োজনে নিজ উদ্যাগে বাস চালাতে পারেন। যাত্রী নাদির আহমেদ জানান, তিনি খুলনায় যেতে পটুয়াখালী থেকে কষ্ট করে বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ডে আসেন। সেখানে এসে দেখেন বাস চলাচল করছে না। এখন খুলনায় যেতে হলে তাকে শারীরিক কষ্টের সঙ্গে সঙ্গে অর্থও গচ্চা দিতে হবে। একই কথা বললেন একাধিক যাত্রী। তাদের এখন অতিরিক্ত টাকা খরচ করে গন্তব্যে যেতে হবে। এ জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধানের দাবি তোলেন তারা। রূপাতলী বাস-মিনিবাস-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, শ্রমিকদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে হবে। আর তা যদি সরকার দিতে ব্যর্থ হয় দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। গত মঙ্গলবার বিকালে বাস ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রমিকদের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। প্রতিবাদে বরিশাল-ঢাকা-কুয়াকাটা এবং বরিশাল-পিরোজপুর-খুলনা জাতীয় সড়ক আটকে দেন শিক্ষার্থী ও শ্রমিকরা। রাত ৯টায় শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ হলে তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। কিন্তু শ্রমিকরা তাদের নিরাপত্তায় কর্মবিরতি চালিয়ে যান। আর এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বরিশালসহ বিভাগের চার জেলায়। পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনা থেকে কোনও ধরনের বাস ছেড়ে আসছে না। বরিশাল থেকেও কোনও ওইসব জেলায় বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। আর যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে তিন থেকে চার গুণ ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
